নির্মাণকালেই ভেঙে পড়ল মডেল মসজিদের বিম

নির্মাণকালেই ভেঙে পড়ল মডেল মসজিদের বিম

দেশব্যাপী সরকারি মডেল মসজিদ স্থাপন প্রকল্পে নেত্রকোনায় নির্মাণকালেই ভেঙে পড়া গ্রেটবিম রাতারাতি সরিয়ে নেওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখিয়ে শ্রমিকদের ওপর অভিযোগ তুলে নিজেরাই ভেঙে ফেলেছেন বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারের প্রতিনিধি।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পরিদর্শনে গেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ কাউকে জিজ্ঞাসা না করেই ঠিকাদারের পক্ষ নিয়েছেন তদন্তকারী দল। এ ছাড়াও প্রকল্প কমিটির উপ-প্রকল্প পরিচালক তদন্তে এসে তিনিও সাফাই গাইলেন ঠিকাদারের, সমালোচনা করলেন সংবাদকর্মীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের ৫৬০ মডেল মসজিদ প্রকল্পের আওতায় নেত্রকোনার বারহাট্টায় কোর্ট ভবন এলাকায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে মডেল মসজিদ। গত ৩০ জানুয়ারি রাতে মসজিদের তিন তলার একটি গ্রেটবিম ধসে পড়লে বিকট শব্দে এলাকাবাসীসহ সবাই চলে যান দেখতে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা রাতারাতি বিমটি ভেঙে সরিয়ে ফেলেন। নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন রাতের মধ্যেই।

-জীবন আর্ট এন্ড ডিজিটাল সাইন

এদিকে রাতে বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে গেলে পরদিন ৩১ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিদর্শনে যান। কিন্তু গিয়ে ভেঙে পড়া বিমের কোনো চিহ্নই পাননি। কাজের নানা অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসী কথা বললেও প্রকৌশল বিভাগ তা গায়ে মাখেনি। কিন্তু তাদের কথায় গড়মিল থাকায় জেলা প্রশাসন চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। যা মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

পড়ুনঃ-  চারঘাটে হত্যার ২২ দিনেও উদঘাটন হয়নি রহস্য, হতাশায় পল্লী চিকিৎসকের পরিবার

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মাস মেয়াদি কাজের মাঝে বেশ কয়েকবার অর্থাৎ পাঁচ থেকে ছয়টি শ্রমিক দলের বদল হয়ে গেছে। প্রায় তিন বছর হলেও এখন পর্যন্ত কাজের শেষ নেই। বিম ভেঙে পড়ার ঘটনার দিন থেকে কাজ করেছে চট্টগ্রাম থেকে আসা নতুন একটি দল। শেওলা পড়ে থাকা কাজ বাস্তবায়ন করা সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল কার্যাদেশ হয়। কিন্তু পরিদর্শনে আসা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান ২০২০ এর এপ্রিল মাসে কাজ শুরু হয়।

পড়ুনঃ-  ডিসেম্বরে মেট্রোরেলের যাত্রা, চলছে মহাযজ্ঞ

অন্যদিকে সেই হিসাব অনুযায়ী কাজ শেষ হয়ে পড়ারও প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাকি রয়েছে তিন ভাগের পূর্ণ এক ভাগ কাজই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করছেন। প্রকৌশলীর সহায়তায় একটি মসজিদ নির্মাণেও তারা দুর্নীতি করেছে। শ্রমিকদের কম টাকা দেওয়ায় কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে পাশের একটি দোকানে বাকি রেখে শ্রমিকরাও চলে যায়। এরপর আবার নিয়ে আসা হয় নতুন শ্রমিক। এদিকে বাকি দেওয়া দোকানদাররাও পাননি টাকা। সেই সঙ্গে ঠিকাদারি ইঞ্জিনিয়ারও বাকি করেছেন অনেক টাকা।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি (সাইড ইঞ্জিনিয়ার) আনোয়ার হোসেন শ্রমিক বদলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বড় প্রকল্পে শ্রমিক বদলাতেই হয়। আর টাকা পাওয়ার কথা কে বলেছে তাকে সামনে আসতে বলেন তিনি। বিমটিকে অর্নামেন্সের সঙ্গে তুলনা করে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন গণপূর্ত বিভাগের নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, এটি নিয়ম ছাড়া করে ফেলেছিল তাই ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি ভেঙে পড়েনি ভাঙা হয়েছে।

পড়ুনঃ-  সুন্দরবন থেকে ৪২ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার

ঢাকা থেকে আসা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী উপ-প্রকল্প পরিচালক শফিকুর রহমান তালুকার বলেন, কেউ যাতে আহত না হন তাই রাতেই সরানো হয়েছে হেলে পড়া বিমটি। তিনি বিষয়টি পজিটিভ রিপোর্ট করারও অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি বলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছে।

অন্যদিকে কাউকে না ডেকেই তদন্ত করার বিষয়ে তদন্ত প্রধান কর্মকর্তা বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের বলা হয়েছে। কাউকে ডাকতে হয়নি তারা নিজেরাই দেখে উপস্থিত হয়েছেন। তদন্ত শেষ হলে বোঝা যাবে এটি কি হয়েছিল। তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তদন্ত প্রধান। #সময় টিভি

দৈনিক চারঘাট ইউটিউব চ্যানেলে SUBSCRIBE করুন।