চারঘাটে হত্যার ২২ দিনেও উদঘাটন হয়নি রহস্য, হতাশায় পল্লী চিকিৎসকের পরিবার

চারঘাটে হত্যার ২২ দিনেও উদঘাটন হয়নি রহস্য, হতাশায় পল্লী চিকিৎসকের পরিবার

রাজশাহীচারঘাটে পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মান্নান আলী (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি থানা পুলিশ। এতে চরম হতাশায় ভুগছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।

তবে পুলিশের দাবি হত্যাকান্ডের ঘটনাটি অতি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার বিষয়ে মামলার এজাহার নামীয় রবিউল ইসলাম নামের একজন আসামীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উদঘাটন করা সম্ভব হবে হত্যা কান্ডের আসল রহস্য।

স্থানীয় গ্রামবাসি ও নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল মান্নান আলী (৭০) পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ও ঔষধ ব্যবসায়ী। উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের মালেকার মোড়ে নামক স্থানে তার একটি ঔষধের দোকান রয়েছে।

পড়ুনঃ-  নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে চারঘাটে কৃষি জমিতে ব্যবহার হচ্ছে জৈব সার

এ ছাড়াও কানজগাড়ী নিজ বাড়ীর অদুরে নিহত আব্দুল মান্নান আলীর একটি কলা বাগান ও বেগুনের জমি রয়েছে। কলা ও বেগুনে পোকা দমনের জন্য মাঝে মধ্যে কিটনাশক প্রয়োগ করতে যেত মান্নান আলী। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২২ এপ্রিল শুক্রবার ইফতারের পুর্বে নিজ বাড়ী থেকে ইফতার সামগ্রী নিয়ে ওই বাগানে কিটনাশক প্রয়োগ করতে যায় মান্নান আলী।

এরপর সন্ধ্যা গড়িয়ে এশার নামাজের সময় পেরিয়ে গেলেও মান্নান আলী বাড়ীতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুজতে বের হয়। পরে রাত ৮ টার দিকে তার নিজ জমির বেগুন ক্ষেতে একটি গর্তের মধ্য থেকে মান্নান আলীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

পড়ুনঃ-  আবার প্রকাশ্যে এলেন ডা. মুরাদ

এ দিকে হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাহিম আহম্মেদ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ঘটনার ওই রাতেই এজাহার নামী আসামী ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক আলীর ছেলে লিটন আলীকে।

পরে দুজনকেই ঘটনার পরের দিন শনিবার দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এজাহার নামী আসামী রবিউল ইসলামকে ৩ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার রিমান্ড শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার।

এ দিকে বিষয়টি সম্পর্কে নিহতের ছেলে মামলার বাদী মাহিম আহম্মেদ বলেন, হত্যা কান্ডের ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও আমার পিতা হত্যার রহস্য এখনো উদঘাটন হয়নি। এতে আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যরা চরম হতাশায় রয়েছি। আমার পিতার তেমন কোন শত্রু না থাকলেও কে বা কেন আমার পিতাকে এভাবে নির্মম ভাবে হত্যা করলো। আমরা তো কারো সঙ্গে কখনও বিরোধে জড়ায়নি।

পড়ুনঃ-  বাঘায় প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত

বিষয়টি সম্পর্কে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক চারঘাটকে বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রবিউলকে ৩ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এখনও তার কাছ থেকে তেমন কোন রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলাটি অতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের গ্রেফতার পুর্বক হত্যা কান্ডের রহস্যও উন্মোচন সম্ভব হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।