কর্ণাটকে তরুণীর হিজাবকাণ্ড: কলকাতায় বিক্ষোভ

কর্ণাটকে তরুণীর হিজাবকাণ্ড: কলকাতায় বিক্ষোভ

কর্ণাটকের মাণ্ড্য প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজের হিজাব বিতর্কে তোলপাড় গোটা ভারতবর্ষ। দেশটির সীমানা পেরিয়ে এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু। দেশটির কলকাতাতেও পড়েছে সেই আঁচ। কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কসার্কাস ক্যাম্পাসে হিজাবের পক্ষে সরব হলেন ছাত্রছাত্রীরা, করেছেন বিক্ষোভ।

বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির পার্কসার্কাস ক্যাম্পাসে পোস্টার পোস্টারে সয়লাব। বিশাল পোস্টার ও ব্যানার হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জমায়েত। তাদের বার্তা একটাই ‘হিজাব আমার সাংবিধানিক অধিকার’, ‘রক্ত চাই রক্ত নাও, আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দাও’।

কর্ণাটকে তরুণীর হিজাবকাণ্ড: কলকাতায় বিক্ষোভ ১

বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রীরা সর্বত্রই হিজাব পরার ডাক দেন এবং হিজাব তাদের ‘সাংবিধানিক অধিকার’ বলে দাবি তোলেন। এ সময় বিক্ষোভকারী প্রত্যেক ছাত্রীই ছিলেন হিজাব পরিহিতা এবং ছাত্রীদের সঙ্গে এই দাবিতে শামিল হন ছাত্ররাও।

-জীবন আর্ট এন্ড ডিজিটাল সাইন

কর্ণাটকের হিজাব বিতর্কের মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বোরখা পরা এক ছাত্রী একটি স্কুটিতে কলেজ চত্বরে প্রবেশ করছেন। যেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল গেরুয়া উত্তরীয় পরা একদল ছাত্র। ছাত্রীটি গাড়ি পার্ক করে ক্লাসের দিকে এগোতেই তাকে ঘিরে ধরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে থাকে ছাত্ররা। একটা সময় ঘুরে দাঁড়ান ছাত্রী। চোয়াল শক্ত করে পাল্টা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায় তাকে।

পড়ুনঃ-  ২২ যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ নেপালের উড়োজাহাজ

এদিকে সেই তরুণীকে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের ইসলামিক সংগঠন জামাত উলেমা-ই-হিন্দ। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) টুইট করে এই ঘোষণা দেয় দলটি। টুইটারে জামাত উলেমা-ই-হিন্দ ওই যুবতীর ছবি দিয়ে লেখে, বিবি মুসকান খান সাহসের সঙ্গে নিজের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকারকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

সেদিনের সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুসকান খান বলেন, আমি যখন কলেজে ঢুকছিলাম, তখন বাধা দেওয়া হয়। জিজ্ঞেস করা হয়, আমি কেন বোরকা পরে এসেছি? কিন্তু আমি এসব নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুসকান দাবি করেন, আমাকে দেখেই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। আমিও পাল্টা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে থাকি।

পড়ুনঃ-  যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের চরম সংকট!

তার দাবি, উপস্থিত গেরুয়া উত্তরীয় পরাদের কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছিলেন। কারণ তারাও মুসকানের সহপাঠী। তবে বেশির ভাগই বহিরাগত। মুসকান জানিয়েছেন, পড়াশোনা করাই তার অগ্রাধিকার। তার কথায়, ওরা আমাদের পড়াশোনা করার অধিকারটাই ছিনিয়ে নিতে চায়, এক টুকরো কাপড়ের জন্য!

কর্ণাটকে তরুণীর হিজাবকাণ্ড: কলকাতায় বিক্ষোভ ২

মুসকান বলেন, গত সপ্তাহ থেকে এটা শুরু হয়েছে। আমি বরাবরই বোরকা আর হিজাব পরতে অভ্যস্ত। ক্লাসে বোরকা খুলে হিজাব পরে নেই। হিজাব এখন যেন আমার অঙ্গ হয়ে গেছে। কলেজের প্রিন্সিপালও কোনোদিন কিছু বলেননি। বহিরাগতরা এটা শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রিন্সিপাল আমাদের বোরকা আনতে মানা করেছেন। কিন্তু হিজাবের দাবিতে আমাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে।

কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের বাণিজ্য শাখার ওই ছাত্রী বলেন, আমার হিন্দু বন্ধুরাও আমার সঙ্গে আছে। আজ সকাল থেকে একের পর এক ফোন পাচ্ছি। আমি আশ্বস্ত।

পড়ুনঃ-  ১১ এপ্রিল হতে পারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন

এদিকে হিজাব বিতর্কে উত্তপ্ত কর্ণাটকে বুধবার থেকে তিন দিন সমস্ত স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্ণাটক সরকার। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই মঙ্গলবার বিকেলে টুইট করে এই নির্দেশ দিয়েছেন। টুইটে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সমস্ত ছাত্র, শিক্ষক এবং স্কুল ও কলেজের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি কর্ণাটকের সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আবেদন করছি। আগামী তিন দিনের জন্য সমস্ত হাই স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি আমি। সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করছি।’

অন্যদিকে এই ঘটনার পর আজ বুধবার ফের হিজাব সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্টে। জনসাধারণকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে আদালত। পাশাপাশি হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই বিষয়ে সংবিধান অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দৈনিক চারঘাট ইউটিউব চ্যানেলে SUBSCRIBE করুন।