ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত সাংবাদিককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ভিড়

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত সাংবাদিককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ভিড়

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত আলজাজিরার প্রখ্যাত সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহর মরদেহ ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে আনা হয়েছে। তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে শহরে ভিড় করেছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে লাখো মানুষ।

বুধবার (১১ মে) অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে সংবাদ সংগ্রহকালে শিরিন আবু আকলেহকে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানকালে পেস্ট ভেস্ট পরে খবর সংগ্রহ করছিলেন ৫১ বছর বয়সী এই সাংবাদিক। এ সময় একটি গুলি এসে তার মুখে লাগে। কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।

এ সময় এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকও গুরুতর আহত হন। তার পিঠে গুলি লাগে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এবং আলজাজিরার সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১১ মে) জেনিন শহরে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের তথ্য সংগ্রহ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক শিরিন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পড়ুনঃ-  লড়াইয়ে সাড়ে ৩ হাজার রুশ সৈন্যদের হত্যার দাবি ইউক্রেনের

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক শিরিনের মরদেহ নাবলুস শহর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রামাল্লায় আনা হয়। মরদেহ রামাল্লায় পৌঁছানোর আগে পুরো শহর লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা আলজাজিরার অফিসের সামনে জড়ো হন।

সাংবাদিক শিরিনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর সময়কার একটি ছবি প্রকাশ করেছে আলজাজিরা। তাতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকশ ফিলিস্তিনি অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামিয়ে নিয়ে আসছে। এ সময় রামাল্লা থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম জানান, ‘শিরিনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আলজাজিরার অফিসের একটি কক্ষে রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি, তার সহকর্মীরা, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনরা তার প্রতি শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।’

ফিলিস্তিনি ভূ-খণ্ড দখল করে ১৯৪৮ সালে গড়ে তোলা হয় ইসরাইল রাষ্ট্র। এরপর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে আসছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের এই নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিদিনের চিত্র সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরে আরব বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন খ্যাতনামা টেলিভিশন সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ।

পড়ুনঃ-  রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়, ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবেন বাইডেন?

শিরিন একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বন্ধু ও সহকর্মীরা জানিয়েছেন, শিরিন অনেক সাহসী-দয়ালু। সবসময় তার মুখে হাসি লেগেই থাকত। হারানো অধিকার ফিরে পেতে ফিলিস্তিনিদের যে সংগ্রাম তাকে কণ্ঠ দিয়েছিলেন শিরিন এবং প্রায় তিন দশক ধরে এই কাজ করছিলেন তিনি।

আবু আকলেহের সহকর্মী ও আলজাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।’ শিরিন দয়ালু, কর্মঠ ও নিবেদিত সাংবাদিক ছিলেন। কাঁন্না জড়িত কণ্ঠে ইব্রাহিম বলেন, তিনি ছিলেন অতুলনীয়, বিনয়ী ও পরিচিত মুখ। নিজের কাজের ব্যাপারে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল ছিলেন বলেও জানান তিনি।

পড়ুনঃ-  একসঙ্গে তিন বোনকে বিয়ে

ইব্রাহিম আরও বলেন, তিনি হিব্রু ভাষা শিখছিলেন। কারণ তিনি ইসরাইলের গণমাধ্যমের বর্ণনা আরও ভালোভাবে বোঝতে চেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি তিনি ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর ডিপ্লোমা শেষ করেন। শিরিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আলজাজিরার আরেক সাংবাদিক ডালিয়া হাতুকা বলেন, ‘তিনি ছিলেন আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা।’

১৯৭১ সালে জেরুজালেমে জন্মগ্রহণ করেন এই খ্যাতিমান সাংবাদিক। তিনি ছিলেন একজন খ্রিষ্টান। জর্ডানের ইয়ারমুক ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতায় যাওয়ার আগে প্রাথমিকভাবে স্থাপত্যবিদ্যায় পড়াশোনা করেন। স্নাতক শেষ করে তিনি ফিলিস্তিনে ফিরে আসেন ও কিছু গণমাধ্যমে কাজ করেন। আল-জাজিরার যাত্রা শুরুর এক বছর পর তিনি এর সঙ্গে যুক্ত হন।

একজন টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে শিরিন আবু আকলেহের গাজার ছোট-বড় সব যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। ২০০৬ সালে লেবানন যুদ্ধসহ স্থানীয় সব সংবাদও তিনি সংগ্রহ করেছেন।